ফেনী    ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ        দুপুর ১২:৪২
শান্তি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মহামারি সহ সকল সংকট মোকাবেলা করতে পারি- প্রধানমন্ত্রী।সত্যের সন্ধানে নিউজ।-সত্যের সন্ধানে নিউজ
তারিখ - সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ জাতীয়
এডিটর - সুমন পাটোয়ারী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোহাম্মদ হাসানঃ জাতিসংঘের ৭৫তম অধিবেশনে ১৭তম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আমরা মানব ইতিহাসের এক অভাবনীয় দুঃসময় অতিক্রম করছি। জাতিসংঘের ইতিহাসেও এই প্রথমবারের মত নিউ ইয়র্কের সদর দফতরে সদস্য দেশসমূহের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের অনুপস্থিতিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতিসংঘের এই সভাকক্ষটি আমার জন্য অত্যন্ত আবেগের। ১৯৭৪ সালে এই কক্ষে দাঁড়িয়ে আমার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সদ্য স্বাধীন দেশের সরকার প্রধান হিসেবে মাতৃভাষা বাংলায় প্রথম ভাষণ দিয়েছিলেন। আমিও এই কক্ষে এর আগে ১৬ বার সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিশ্বশান্তি ও সৌহার্দের ডাক দিয়েছি। সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এটি আমার ১৭তম বক্তৃতা। আজ ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে ভার্চুয়াল ভাষণ প্রদানকালে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রতিবছরের মত এবারও বাংলায় ভাষণ দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারি নিরসন এবং এজেন্ডা-২০৩০ অর্জনে আমাদের প্রচেষ্টা সমানতালে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় রিপোর্ট উপস্থাপন প্রমাণ করে যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে আমরা যথাযথভাবে এগিয়ে চলেছি। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ আরও প্রকট হয়েছে। এ মহামারি আমাদের উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছে যে, এ সংকট উত্তরণে বহুপাক্ষিকতাবাদের বিকল্প নেই। জাতিসংঘের ৭৫তম বছর পূর্তিতে জাতিসংঘ সনদে অন্তর্নিহিত বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রতি আমাদের অগাধ আস্থা রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও বহুপাক্ষিকতাবাদের আদর্শ সমুন্নত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। পূর্বে ধারণকৃত এই ভাষণে শেখ হাসিনা দেশের ওষুধ শিল্পের অবকাঠামোগত সক্ষমতার বিষয়টির উল্লেখ করে বলেন, ‘কারিগরি জ্ঞান ও মেধাসত্ব প্রদান করা হলে, এই ভ্যাকসিন বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রকদের মতে গবেষকরা মানবদেহে ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলিতে ৪২ টি ভ্যাকসিন পরীক্ষা করছেন এবং কমপক্ষে ৯৩ টি প্রাক্কলিত ভ্যাকসিন প্রাণীতে সক্রিয় তদন্তাধীন রয়েছে। তবে উন্নত দেশগুলো টিকা গ্রহণকারীদের দ্রুত ইনোকুলেটগুলির সহজলভ্যতার জন্য আদেশ দিচ্ছিল যার ফলে মহামারীটি দীর্ঘায়িত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারী নিরসনে আমাদের উদ্যোগ এবং এজেন্ডা-২০৩০ অর্জনে আমাদের প্রচেষ্টা সমানতালে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মহামারী কার্যকরভাবে মোকাবেলায় সঠিক নেতৃত্বের নির্দেশনায় ‘সম্মিলিত ব্যবস্থা’ নিতে হবে। অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বাংলাদেশে কোভিড-১৯কে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা এবং সরকার প্রদত্ত নাগরিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ রোগী সনাক্তের সাথে সাথে আমরা ৩১-দফা নির্দেশনা জারি করেছিলাম। করোনাভাইরাস যাতে ব্যাপকহারে সংক্রামিত হতে না পারে, তার জন্য আমরা সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছি। যার সুফল হিসেবে আমরা লক্ষ্য করছি, ঋতু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশে যেসব রোগের প্রাদুর্ভাব হয়, এবার সেসব রোগ তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে তহবিল সংগ্রহ করে এতিম ও গরীব শিক্ষার্থী, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, স্কুল শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ যাঁরা সাধারণভাবে সরকারি সহায়তার আওতাভুক্ত নন, তাঁদের মধ্যে ২ দশমিক ৫ বিলিয়নের বেশি টাকা বিতরণ করেছেন। ফলে সাধারণ মানুষকে করোনাভাইরাস খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি। রোহিঙ্গা সমস্যা, জলবায়ু সংকট, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশা, সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থার বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের গৃহীত জিরো টলারেন্স পলিসি, এসডিজি অর্জনের পদক্ষেপসমূহ, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, বহুপাক্ষিকতা এবং বিশ্বশান্তি প্রচেষ্টার নানাদিক তাঁর ১৭ মিনিটের ভাষণে তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দ্বিতীয় ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ রিপোর্ট উপস্থাপন প্রমাণ করে যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে আমরা যথাযথভাবে এগিয়ে চলেছি।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেমন জাতিসংঘ সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের উপর গুরুত্বারোপের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল, তেমনি এই মহামারী আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক নেতৃত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।’ দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে শেখ হাসিনা বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ১১ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে। তিন বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’ আর্থিক খাতের আশু সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাঁর সরকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রপ্তানিমুখী শিল্প, শ্রমিকদের সুরক্ষা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ওয়ার্কিং ক্যাপিট্যাল প্রদান, রপ্তানি বৃদ্ধিতে ঋণ প্রদান, কৃষি ও কৃষকদের সহায়তা, কর্মসৃজনের জন্য ঋণ প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ, পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বীমা চালুকরণ খাত প্রণোদনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা মোট ১৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, যা আমাদের মোট জিডিপি’র ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।সমগ্র বিশ্বে খাদ্যাভাবের আশংকা থাকায় এ সম্পর্কে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা করোনাকালে খাদ্য উৎপাদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সেই সঙ্গে পুষ্টি নিশ্চয়তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের শিল্প কারখানা সচল রাখা এবং কৃষি ও শিল্পপণ্য যথাযথভাবে বাজারজাতকরণের বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। যার ফলে বাংলাদেশের স্ব্যাস্থ্য ও অর্থনীতি এখনও তুলনামূলকভাবে অনেক ভাল আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেশে ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের প্রণোদনা বাবদ ৩৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি। তবে কোভিড-পরবর্তী সময়ে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ প্রধানমন্ত্রী অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি সহমর্মিতার সঙ্গে ও ন্যায়সঙ্গতভাবে বিবেচনা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অভিবাসী গ্রহণকারী দেশসমূহের প্রতি ও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে কোভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বব্যাপী উৎপাদনে স্থবিরতা সত্ত্বেও আমাদের ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আগামী অর্থবছরে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আমরা আশাবাদী। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বিদ্যমান সমস্যাসমূহ প্রতিনিয়ত প্রকট হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর এই সঙ্কটকালেও আমাদেরকে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সিভিএফ ও ভি-টুয়েন্টি গ্রুপ অব মিনিষ্টার্স অব ফিন্যান্স-এর সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু সমস্যা উত্তরণে একটি টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নে নেতৃত্ব প্রদান করবে। এ ছাড়াও গ্লাসগো কপ-এ গঠনমূলক ও কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন,এ বছর আমরা ‘ওমেন,পীস এন্ড সিকিউরিটি’এজেন্ডা-এর ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করছি। এই এজেন্ডার অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তি ও নিরাপত্তায় নারীর ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করি। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণে ‘বেইজিং ঘোষণা’ এবং ‘প্ল্যাটফর্ম অব অ্যাকশন’ কার্যকরে বাংলাদেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ এই ঘোষণার ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনকালে ঘোষণায় উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুসমূহ বাস্তবায়নে আমাদের দৃঢ় সঙ্কল্প ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা লিঙ্গ বৈষম্য সামগ্রিকভাবে ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ কমিয়ে এনেছি। আমাদের জাতীয় উন্নয়নের মূলে রয়েছে নারীদের অবদান। মহামারী মোকাবেলাসহ সকল কার্যক্রমে বাংলাদেশের নারীরা সামনে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ শিশুদের উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউনিসেফ-এর এক্সিকিউটিভ বোর্ডের বর্তমান সভাপতি হিসেবে আমরা শিশুর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছি। তাছাড়া, কোভিড সংক্রান্ত সমস্যা যাতে শিশুদের সামগ্রিক সমস্যায় পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের পররাষ্ট্রনীতি’সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরীতা নয়,’এর উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘মহামারীকালে অসহিষ্ণুতা, ঘৃণা, বিদ্বেষ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের মত বিষয়গুলো বৃদ্ধি পাচ্ছে। শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা এ বিষয়গুলোর মোকাবেলা করতে পারি।’ তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় শান্তিরক্ষী প্রেরণে বাংলাদেশের অবস্থান এখন শীর্ষে। সংঘাতপ্রবণ দেশসমূহে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তি বজায় রাখতে আমাদের শান্তিরক্ষীগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা বলেন, এই শান্তিরক্ষীদের ‘সুরক্ষা’ ও ‘নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম দায়িত্ব। তিনি বলেন, শান্তির প্রতি অবিচল থেকে আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। মহামারীর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত পৃথিবী বিনির্মাণে বৈশ্বিক আকাক্সক্ষার প্রতি আমাদের সমর্থন অবিচল। সে বিবেচনা থেকে পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশসমূহের কার্যক্রমকে আমরা জোর সমর্থন জানাই।’বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও সে সময়ে দেশে সংঘটিত গণহত্যার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন,‘আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামে বাঙালি জাতি অবর্ণনীয় দুর্দশা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মত জঘন্য অপরাধের শিকার হয়েছে। সেই কষ্টকর অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা নিপীড়িত ফিলিস্তিনী জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবীর প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ এবং ২১০০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ব-দ্বীপে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী এজন্য প্রযুক্তিগত বিভাজন নিরসন, সম্পদ আহরণ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য আমাদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্বল্পোন্নত হতে উন্নয়নশীল এবং সদ্য উত্তরিত উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য এই আপদকালীন, উত্তরণকাল ও উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বর্ধিত আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং প্রণোদনা প্যাকেজ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা প্রথম থেকেই “জীবন ও জীবিকা” দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন যাতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়, তার জন্য বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছি। আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আমরা প্রতি বছর প্রায় ৩৯ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করি। এ ছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলাদের জন্য ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা এবং সমাজের অনগ্রসর শ্রেণিসহ অন্যদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ও ভাতার প্রচলন করেছি, যার মাধ্যমে প্রায় ৯ দশমিক ১ মিলিয়ন পরিবার উপকৃত হচ্ছেন। শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এই সাধারণ পরিষদে দাঁড়িয়ে প্রথম ভাষণই বাংলায় প্রদানেরও স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি শোষণ, বঞ্চনা ও নিপীড়নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতিকে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন। তাঁরই দেখানো পথে হেঁটে আমরা আজ বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল আসনে নিয়ে আসতে পেরেছি।’ তিনি বলেন,‘১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে তাঁর (বঙ্গবন্ধু) প্রদত্ত দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ বর্তমান সঙ্কট মোকাবেলার জন্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।’ প্রধানমন্ত্রী সেদিন জাতির পিতা প্রদত্ত ভাষণের উদ্বৃতি দেন- ‘জাতিসংঘ সনদে যে মহান আদর্শের কথা বলা হয়েছে তা আমাদের জনগণের আদর্শ এবং এই আদর্শের জন্য তাঁরা চরম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এমন এক বিশ্ব ব্যবস্থা গঠনে বাঙালি জাতি উৎসর্গকৃত, যে ব্যবস্থায় সকল মানুষের শান্তি ও ন্যায়বিচার লাভের আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন,তাঁর এই দৃপ্ত ঘোষণা ছিল মূলত বহুপাক্ষিকতাবাদেরই বহিঃপ্রকাশ। এ বছর জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন এবং ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর তাঁর (শেখ হাসিনা) ও ছোট বোন শেখ রেহানার প্রবাসে রিফ্যুজি জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়ার মর্মন্তুদ ইতিহাসও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,‘আমরা আমাদের জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সে সোনার বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত – যেখানে সবার মানবাধিকার নিশ্চিত হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন,‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে জাতি ও বিশ্বের কাছে এটিই আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।’ পাশাপাশি আমরা আমাদের জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সে সোনার বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত- যেখানে সবার মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে জাতি ও বিশ্বের নিকট এটিই আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

Материалы по теме:

মহামান্য রাষ্ট্রপতি’র মধুময় দাম্পত্যের ৫৬তম বার্ষিকী আজ।সত্যের সন্ধানে নিউজ।
মোহাম্মদ হাসানঃ 'কোনকালে একা হয়নি তো জয়ী পুরুষের তরবারি/ সাহস দিয়েছে প্রেরণা দিয়েছে বিজয়ালক্ষ্মী নারী’। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম যথার্থই বলেছিলেন প্রতিটি পুরুষের ...
রাজধানীর ৬বাসে সিরিজ অগ্নিকান্ড।
মোহাম্মদ হাসানঃ রাজধানীর শাহবাগ, প্রেসক্লাব, গুলিস্তানের সচিবালয় সংলগ্ন সড়ক, মতিঝিল, শাহাজাহানপুর এবং নয়াবাজারে ছয়টি বাসে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ ১২নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ...
চাটখিল সাহাপুর স্কুলের ৪০জন শিক্ষার্থী ভর্তি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩ শিক্ষার্থী নিহত,আহত ৩০।সত্যের সন্ধানে নিউজ।
প্রতিনিধিঃ চাটখিল সাহাপুর স্কুলের শিক্ষা সফরের বাস দূর্ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থী নিহত ও ৩০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানাগেছ, নোয়াখালী চাটখিল উপজেলার সাহাপুর ...
খাগড়াছড়িতে ধর্ষণকারীদের শাস্তির দাবীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলওসমাবেশ।সত্যের সন্ধানে নিউজ।
সমপ্রিয় চাকমা অর্ণব খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:-খাগড়াছড়ি শহর কলাবাগান মিল্লাত চট্টর থেকে ভাংগাব্রীজ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। খাগড়াছড়িতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ এবং ...
ভোগান্তি,হয়রানি আর দুর্নীতির আরেক নাম চাঁদপুর বি আর টি এ।
ভোগান্তি,হয়রানি আর দুর্নীতির আরেক নাম চাঁদপুর বি আর টি এ ভোগান্তি,হয়রানির আরেক নাম চাঁদপুর বি আর টি এ... যেখানে মোটর সাইকেল সহ সকল প্রকার ...
আপনার মন্তব্য লিখুন
  •   এস.এম কিবরিয়াকে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব থেকে অব্যাহতি প্রদান
  •   সোনাগাজীর মতিগঞ্জ ইউনিয়নে শিক্ষা সামগ্রী, ক্রীড়া সামগ্রী ও কীটনাশক ছিটানোর স্প্রে মেশিন বিতরন
  •   ছাগলনাইয়ায় পালক পিতার বিরুদ্ধে মেয়ের যৌন নির্যাতনের মামলা।
  •   কল দিলে পৌঁছে যাবে ফেনীতে করোণা আক্রান্ত রোগীর জন্য ফ্রী অক্সিজেন সেবা
  •   মৌলভীবাজারে পাহাড় ও বনজঙ্গল ঘেরা সাপের রাজ্যে বিষের চিকিৎসা কতদূর
  •   ফেনীর দাগনভূঞায় রিপোটার্স ইউনিটির আয়োজনে দেড় হাজার লোকের মাঝে স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরন।
  •   র‍্যাব হেফাজতে হেলেনা জাহাঙ্গীর, জব্দ করা হয়েছে বিদেশি মদ ও হরিণের চামড়া
  •   কমলগঞ্জে”স্ত্রীর পরকীয়ায়” জীবন গেল স্বামীর।
  •   ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
  •   মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর শাখা কমিটি ঘোষণা
  •   কুলাউড়ায় ডাকাত আটক,৬রাউন্ড গুলিসহ দেশীয় পাইপগান উদ্ধার।
  •   কমলগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার পর বাড়ির উঠানে “একমাস ছয়দিন” লাশ পুঁতে রাখে সুবাস।
  •   সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন দোহারের এসিল্যান্ড জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র
  •   রক্তদানে বিশেষ অবধান রাখায় পরশুরাম কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির সম্মাননা পেলেন যোটন
  •   দৈনিক ভোরের কাগজের সাংবাদিক মোস্তফা পাঠোয়ারী শ্বাসকষ্টে ইন্তেকাল করেছে
  •   সুবর্ণচরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার,থানায় জিডি!
  •   সেনবাগে বিএনপি’র অক্সিজেন ব্যাংকে ১০টি সিলিন্ডার প্রদান করলেন- সৌদি আরব বিএনপি’র নেতা মান্নান।
  •   ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ২ ।
  •   সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মবার্ষিকী সোনাগাজীতে যুবলীগের বৃক্ষরোপন ও দোয়া মাহফিল
  •   দোহারে সরকার ঘোষিত কঠোর লক ডাউন বাস্তবায়নে মাঠে উপজেলা প্রশাসন











  • উপদেষ্টা : দিদারুল কবির রতন
    পৃষ্টপোষক : জসিম উদ্দিন লিটন
    ব্যবস্থাপনা পরিচালক : ফারুক আহমেদ সুমন
    সহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: শাহ আলম
    সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন পাটোয়ারী
    অফিস : লিটন ব্রাদার্স ফাজিলের ঘাট-রোড দাগনভূঞা, ফেনী
    ফোন: 01816284600


    জসিম উদ্দিন লিটন
    সম্পাদক ও প্রকাশক

    সুমন পাটোয়ারী
    নির্বাহী সম্পাদক ও এডিটর


    বি:দ্রি:-উক্ত অনলাইন পোর্টালটির সকল পেপার্সের কার্যাদি প্রক্রিয়াধীন আছে।
    © 2021. sottersondhanenews.com All Right Reserved.
    Developed By   AS Shuvo
    উপরে যান