ফেনী    ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ        রাত ৪:২৫
‘বোনের মৃত্যুতে ভাইয়ের ফেসবুকে হৃদয় বিদারক স্ট্যাটাস’ সত্যের সন্ধানে নিউজ-সত্যের সন্ধানে নিউজ
তারিখ - ডিসেম্বর ১৭, ২০২০ সমাজ
এডিটর - সুমন পাটোয়ারী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


স্টাফ রিপোর্টারঃ
একমাত্র বোনের নাম তাছলিমা(২৪)। আমার ইমিডিয়েট বড়।২০১৪ সালের ২৬ই নভেম্বর মাকে হারানোর পর এই বোনের দিকে তাকিয়েই মাকে ভুলে আছি, বোনের বয়স যখন ১৪ দুর্ভাগ্যবশত তাকে ডায়াবেটিস আক্রমণ করে। তখন মা বেচে ছিল, ২০১৬ সালে বোনের বিয়ে হয় এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। ডায়াবেটিস হওয়ার কারনে ইন্ডাইরেক্টলি আমি তাকে বাচ্চা না নেওয়ার জন্য বলি, কিন্তু চারপাশের মানুষের যত চুলকানি আমার বোনের কেন সন্তান হয়না, মানুষের এই সব কথার জবাব দিতেই বোন এই ঝুঁকি নেয়, যাই হোক বোনের বাচ্চা হবে এই খুশিতেই বোন আত্মহারা, কত খুশি সেটা বলে বুঝানো যাবেনা,মনে মনে অনেক স্বপ্ন বুনে পেলেছে। কিন্তু গত ২ মাস আগ থেকে হঠাৎ তার সমস্ত শরীর ফুলে গেছে,ক্রমে ক্রমে ফুলা আরো বাড়তে শুরু করলো, বাবাকে বললাম বোনকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসতে, কিন্তু আমার পরিবারে কেউ না থাকায় আনা হয়নি, শশুর বাড়িতেই রাখা হলো, নোয়াখালীতে অনেক টেস্ট করা হয়েছে, ডাক্তার দেখানো হয়েছে, কিন্তু কোনো নেগেটিভ রিপোর্ট আসেনি, কিন্তু গত ১৩ ই ডিসেম্বর রাত সাড়ে সাত টায় হঠাৎ বাবা আমাকে বলল, আমার বোনের অবস্থা ভালো না, তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে হবে, বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, ডেলিভারি হওয়ার সময় আর কয় দিন? বাবা বলল আরো ২ মাস। খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। একটা সি,এন,জি রিজার্ভ করে বাবাকে বললাম আপুকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। তখনো আমি ভাবিনি বোনের অবস্থা এতটাই খারাপ।রাত ১২ টায় ফোন আসলো ইমার্জেন্সি ব্লাড লাগবে। আমি ব্লাড ও ম্যানেজ করলাম, তারপর আবার শুনলাম, ডাক্তার আসেনি সকালে সিজার করবে। সকালে আমি সদর হাসপাতালে যাই। সেখানে আমাকে কমিটমেন্ট পেপারে সাইন করতে বলে, আমি সাইন করলাম। আমাকে ঔষধ আনতে বললে আমি ঔষধ নিয়ে আসি ১৫০০ টাকার। তারপর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। বাইরে অপেক্ষা করতে থাকলাম। আধ-ঘন্টা পরে হঠাৎ আমার বোনকে অপারেশন থিয়েটার থেকে সিজার না করিয়েই বের করে দেওয়া হয়। জিজ্ঞেস করার পর এক ডাক্তার বলল, সিজার করার পর বাচ্চার জন্য আইসিইউ লাগবে, যেটা নোয়াখালী নাই। তারা আমাদের ঢাকা, বা অন্য কোথাও যাওয়ার পরামর্শ দেয়। যাই হোক আমরা সেখান থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত করি কিছুক্ষণ আগে যে ওষুধগুলো পনেরশো টাকা দিয়ে কিনেছি সেগুলো ফেরত দিলাম। আমাকে বারোশো টাকা দেওয়া হলো আমি বললাম ভাই কিছুক্ষণ আগে তো পনেরশো টাকা দিয়েছিলাম, সে বলল ভাই এটার দাম তো বারোশো টাকা।যাই হোক আমরা এম্বুল্যান্স এ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। এম্বুল্যান্স এ যাওয়ার পথে দেখলাম, মানুষ হিসেবে আমরা কত অমানুষ। কত বেপরোয়া গাড়ি চালাই আমরা। অন্যের জীবন আমাদের কাছে কত তুচ্ছ। আমরা রাত ৮ টায় ঢাকায় পোঁছাই।আমাদের কে 212 নং ওয়ার্ডে যেতে বলল। আমরা সবাই 212 নং ওয়ার্ডে যাই। কিন্তু আমরা কি চিকিৎসা নিতে এসেছি নাকি তাদের কাছে ভিক্ষা করতে আসেছি সেটা ও বুঝতে পারিনি। সেখানে যারা ছিল তারা আমাদের সাথে কথা বলতে চায় না। অনেকক্ষণ পর একজন আসলো। সে দেখে ভর্তি করানোর জন্য বলল।

এবার ২১২ নং ওয়ার্ডের ডাক্তার, নার্সও ওয়ার্ড বয়দের দালালির কথা বলি।

ভর্তি করানোর পর ইউরেন লাইন লাগানোর জন্য এক আয়াকে ডাকা হয়, লাইন লাগানো পর তাকে ২০০ টাকা দিতে বলা হয়। প্রাথমিকভাবে আমার বোনকে স্যালাইন দেওয়া হয়। এরপর রাত সাড়ে ৯টায় কিছু টেস্ট করতে বলা হয়।আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করতে বলে প্রথমে। আমি বললাম হাসপাতালে করানো যাবে? তারা বলল তাদের ৫০০ টাকা দিলে তারা করাবে। হঠাৎ এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর লোক নিজেকে ওয়ার্ড বয় হিসেবে পরিচয় দেয় এবং টেস্ট গুলো তার মাধ্যমে করাতে বলে। আমার এক পরিচিত লোক ছিল আমি তাকে ফোন দিই, সে ২০৭ এর ওয়ার্ড বয়। নাম মানিক।সে আমাকে মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নিয়ে যায়, এবং ৮০০০ টাকা দিয়ে সবগুলো টেস্ট করানোর চুক্তি করে। আমি টাকা দিয়ে বের হওয়ার পর জানতে পারলাম, আমার পরিচিত লোক্টিও সেখান থেকে ১৫০০ টাকা কমিশন পেয়েছে।যাই হোক টেস্ট গুলা ইমার্জেন্সি করাতে হবে তাই আমার বোনকে রাত ১০ টায় স্টেচারে করে ঢামেক থেকে মর্ডান এ নিয়ে যাই। মর্ডান হলো ঢাকা মেডিকেল এর পশ্চিমে মেইন রোডের পাশে। আমি এবং মানিক ভাই ছিলাম। মেইন রোড অতিক্রম করে ১ম তলার সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হবে।আমার বোনের সমস্ত শরীর ফোলা, ছিল তাই অতিরিক্ত ওজন ছিল, তাছাড়া আমি ও শারিরীক ও মানসিক ভাবে দুর্বল ছিলাম, তাই উপরে উঠতে কষ্ট হচ্চিল, আমার অর্ধ মৃত বোন মানুষকে ডাক্তেছে, ভাই! আমার ভাই পারতেছে না আপনারা একটু ধরেন। কে শুনে কার কথা কেউই আসেনি। আমার সমস্ত শরীর ঘাম ও চোখের পানিতে ভিজে গিয়েছিল।যাই হোক মর্ডান এ টেস্ট গুলো করে আবার ঢামেক এ আসি। বোনকে সাহস দিছিঃ আপু তুই চিন্তা করিস না, যা দরকার আমি সব করবো। তুই বাচবি।'(বোনের সাথে এটাই ছিল আমার শেষ কথা) আমাকে রুম থেকে বের করে দেওয়া হয়। যেহেতু এটা গাইনি ওয়ার্ড তাই আমাকে বের করে দেওয়াই স্বাভাবিক, কিন্তু ভিতরে এত্ত পরিমান দালাল সেটা কেউ কিছু বলেনা কেন জানিনা। রাত ২ টায় আমার চাচী ফোন দেয় ইমার্জেন্সি ব্লাড লাগবে। আমি ক্রিয়েটিভ ব্লাড ব্যাংক এ যাই এবং ৬ ব্যাগ রক্ত আনি ৮০০০ টাকা দিয়ে। ব্লাড আনার পর ওয়ার্ড বয়,সিস্টার ও অন্যান্য সকলে জিজ্ঞেস করে ব্লাড কোথা থেকে আনছেন? এই ব্লাড হবেনা।এগুলা ফেলে দেন। আমি বললাম কেন হবেনা? তারা বলল তাদের কাছে ব্লাড আছে সেটা ছাড়া হবে না। আমার বোনের অবস্থা সংকটাপন্ন, তাই বললাম এখন কি করতে হভে, তারা বলল ১২০০০ টাকা দেন আমরা ব্লাড দিব। আমি ১০০০০ টাকা দিলাম। ওষুধের জন্য বললে আমি ওষুধ আনি আমার পরিচিত লোকের মাধ্যমে, ৪০০০ টাকা দিয়ে। পরে জানলাম এখানে ১৪০০ টাকার ওষুধ । এরপর সিজার এর জন্য নিয়ে গেল বোনকে। শেষবার কথা ও বলা হলোনা। আমার বোন সিজার রুমেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।
মরার পরেও তাদের নির্মমতার শেষ হয়নি। আমাকে বলে আইসিইউতে রাখতে হবে রোগীকে। আমি আইসিইউতে গিয়ে যোগাযোগ করে দেখলাম আইসিইউতে বেড খালি নাই। হঠাৎ এক দালালচক্র এসে আমাকে আইসিইউ ম্যানেজ করার কথা বলে। কিন্তু এক সিস্টার এসে ইন্ডাইরেক্টলি আমাকে জানিয়ে দেয় আপনার বোন আমাকে জানিয়ে দেয় আপনার বোন সিজার রুমেই মারা গেছে, আইসিইউতে নিয়ে লাভ নাই। তখন ও ডাক্তার নিশ্চিত করেনি যে রোগী মারা গেছে। আমাকে কিছুক্ষন হয়রানি করার পর যখন তারা দেখল যে আমি আইসিইউ ম্যানেজ করতেছিনা তখন তারা বলল যে রোগী মারা গেছে।আমরা মৃত্যুর সংবাদ পুরোপুরি না শোনার আগেই এম্বুল্যান্স ড্রাইভার হাজির। বললাম ভাই আপনাকে কে বলল? সে হেসে উঠল! সে সকল কাগজপত্র রেডি করে বলল এম্বুল্যান্স এ যেতে, আমি বললাম কত টাকা। সে বিশাল অংকের ভাড়া চেয়ে বসল এবং ডেথ সার্টিফিকেট আটক করে আমাদের কে আসতে বাধ্য করল।আমি জানি এই দেশে প্রতিবাদ করে কোন লাভ হবেনা।তবুও একটু আবেগটা প্রকাশ করে রাখলাম।আর সেই ইতালি প্রবাসী ভাইয়ের মত বলতে চাই আই ফাক ইউর কান্ট্রি সিস্টেম।বিজয় দিবসের আগের দিনেই দুর্নীতি ও অনিয়মের কাছে পরাজিত হলো আমার বোনের জীবন। আর এই নিষ্পাপ বাচ্চাটির কি দোষ ছিল যে তাকেও জীবন দিতে হয়েছিল।আমার বোনের সেই অর্ধমৃত মুখটি আমার চোখের সামনে সদা-ভাসমান। এই অভিশাপ গুলো যদি কখনো এই দেশের নিয়মগুলো একটু বদলে দেয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন
  •   দোহারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কের আড়ালে নিম্নমানের চিনিগুড়া চাল প্যাকেটিং ও বাজারজাত করায় জরিমানা
  •   শিল্পপতি আবুল বাশারের পিতার জানাযা ও দাফন সম্পন্ন।
  •   সেতুমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, ৫ ককটেল উদ্ধার
  •   সোনাগাজীর বগাদানায় ভাঙ্গা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ইসমাইলের পরিবার
  •   দাগনভূঞার শিল্পপতি আবুল বাশারের পিতা হাজী আমিন উল্লাহ’র ইন্তেকাল
  •   মৌলভীবাজারের “জেলা প্রশাসক করোনা” যুদ্ধে জয়ী।
  •   স্ত্রীর বালিশ চাপায় স্বামীর মৃত্যু, লাশ দাফনের ১১ দিন পর মরদেহ উত্তোলন
  •   আজ থেকে শোকের মাস আগষ্ট শুরু ।
  •   সোনাগাজীতে হারানো মোবাইল উদ্ধার করে মালিকের হাতে হস্তান্তর করলো পুলিশ
  •   এস.এম কিবরিয়াকে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব থেকে অব্যাহতি প্রদান
  •   সোনাগাজীর মতিগঞ্জ ইউনিয়নে শিক্ষা সামগ্রী, ক্রীড়া সামগ্রী ও কীটনাশক ছিটানোর স্প্রে মেশিন বিতরন
  •   ছাগলনাইয়ায় পালক পিতার বিরুদ্ধে মেয়ের যৌন নির্যাতনের মামলা।
  •   কল দিলে পৌঁছে যাবে ফেনীতে করোণা আক্রান্ত রোগীর জন্য ফ্রী অক্সিজেন সেবা
  •   মৌলভীবাজারে পাহাড় ও বনজঙ্গল ঘেরা সাপের রাজ্যে বিষের চিকিৎসা কতদূর
  •   ফেনীর দাগনভূঞায় রিপোটার্স ইউনিটির আয়োজনে দেড় হাজার লোকের মাঝে স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরন।
  •   র‍্যাব হেফাজতে হেলেনা জাহাঙ্গীর, জব্দ করা হয়েছে বিদেশি মদ ও হরিণের চামড়া
  •   কমলগঞ্জে”স্ত্রীর পরকীয়ায়” জীবন গেল স্বামীর।
  •   ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
  •   মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর শাখা কমিটি ঘোষণা
  •   কুলাউড়ায় ডাকাত আটক,৬রাউন্ড গুলিসহ দেশীয় পাইপগান উদ্ধার।











  • উপদেষ্টা : দিদারুল কবির রতন
    পৃষ্টপোষক : জসিম উদ্দিন লিটন
    ব্যবস্থাপনা পরিচালক : ফারুক আহমেদ সুমন
    সহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো: শাহ আলম
    সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন পাটোয়ারী
    অফিস : লিটন ব্রাদার্স ফাজিলের ঘাট-রোড দাগনভূঞা, ফেনী
    ফোন: 01816284600


    জসিম উদ্দিন লিটন
    সম্পাদক ও প্রকাশক

    সুমন পাটোয়ারী
    নির্বাহী সম্পাদক ও এডিটর


    বি:দ্রি:-উক্ত অনলাইন পোর্টালটির সকল পেপার্সের কার্যাদি প্রক্রিয়াধীন আছে।
    © 2021. sottersondhanenews.com All Right Reserved.
    Developed By   AS Shuvo
    উপরে যান